![]() |
| হরমুজ প্রণালী |
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ১১টি ভোট পড়লেও স্থায়ী দুই সদস্যের বিরোধিতার কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই ভোটাভুটিতে কলম্বিয়া ও পাকিস্তান ভোটদানে বিরত ছিল।
প্রস্তাব নিয়ে টানাপোড়েন ও সংশোধন:
হরমুজ প্রণালি বলপূর্বক উন্মুক্ত করার বিষয়ে চীন ও রাশিয়ার তীব্র আপত্তির কারণে মূল খসড়া প্রস্তাবটি বারবার সংশোধন করতে হয়েছে।
- প্রাথমিক প্রস্তাব: নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান প্রধান বাহরাইন প্রাথমিক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল। সেখানে হরমুজ প্রণালি সচল করতে 'সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ সব প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বনের' কথা বলা হয়েছিল।
- সংশোধিত রূপ: রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের আপত্তির মুখে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে 'সব প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ' নেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করে প্রস্তাবটি নরম করা হয়।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
কূটনীতিকরা আশা করেছিলেন, সংশোধিত ও দুর্বল করা এই প্রস্তাবে হয়তো চীন ও রাশিয়া ভিটো দেবে না, বড়জোর ভোটদানে বিরত থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই দেশই তাদের ভিটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি আটকে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি গৃহীত হলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা কতটা প্রভাব ফেলত, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। কারণ বারবার কাটছাঁট করার ফলে প্রস্তাবটি এমনিতেই কার্যকারিতা হারিয়েছিল। চীন ও রাশিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট—তারা ইরানের ওপর কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ বা সামরিক পদক্ষেপের বৈধতা দিতে রাজি নয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘে এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে নতুন এক মোড় এনে দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাসে ব্যর্থতা সত্ত্বেয় মাঠপর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এখন সংকটের সমাধানের পথ খুঁজছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

Comments
Post a Comment