সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

আগামী অর্থবছর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৭, ২০২৬

 

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের সেবা থেকে শুরু করে সকল স্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতির পথগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

​মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

​স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের টেন্ডার প্রক্রিয়াগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি কাজ পায়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বে হামের টিকার ২০টি ভেরিয়েন্ট থাকলেও আমাদের এখানে সুনির্দিষ্ট একটি ভেরিয়েন্টের কথা উল্লেখ করে দেওয়া হয় যাতে বিশেষ কেউ লাভবান হয়। এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আধুনিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সুফল থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে কেনাকাটার দুর্নীতির পথগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছর থেকে সেগুলো পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

​ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও মশা মারার ওষুধের অকার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ওষুধের মান ঠিক থাকলেও তা স্প্রে করার সময় কেরোসিন বা পানি মিশিয়ে পাতলা করে ফেলা হয়। সঠিক অনুপাতে ওষুধ দেওয়ার জন্য আমাকে একবার ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল। এই অমানবিক দুর্নীতির কারণেই স্প্রে করলেও মশা মরে না।”

​হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীদের খাবারে তেলাপোকা পাওয়া যাওয়া বা হাসপাতালের ভেতরে হকারদের নোংরা খাবার বিক্রির মতো ঘটনাগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। এছাড়া চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি।

​জনস্বাস্থ্যের জন্য পরিবেশ দূষণকে অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, একদিকে মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে, অন্যদিকে যত্রতত্র ব্যাটারি পোড়ানো ও কারখানার ধোঁয়ায় তারা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এই চক্র ভাঙতে পরিবেশ রক্ষা ও চিকিৎসার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

​করোনাকালে চিকিৎসকদের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা অত্যন্ত দক্ষ, কিন্তু এখন নৈতিকতার সঙ্গে পেশাদারত্ব বিনিয়োগ করা জরুরি। নৈতিকতা ছাড়া কোনো বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনই মানুষের কাজে আসবে না।” অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মন্ত্রীর এই সংস্কার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


Comments

Post a Comment