![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প |
গোয়েন্দা বনাম ট্রাম্প: তথ্যের বৈপরীত্য
ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর বৈধতা দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে মার্কিন ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (ডিআইএ) তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছিল, এমন প্রযুক্তি তৈরিতে ইরানের ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো গত বছর মার্কিন হামলার পর সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প গত ২ মার্চ এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, ইরান ‘আশু পারমাণবিক হুমকি’ এবং তারা শিগগিরই মার্কিন মাটিতে আঘাত হানবে।
হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়
যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন গোয়েন্দারা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, আক্রান্ত হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। পেন্টাগনের যুদ্ধ পরিকল্পনাতেও এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ভেবেছিলেন সামরিক শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অথচ ট্রাম্প গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, হরমুজ বন্ধ হওয়া এবং মিত্র দেশ সৌদি আরব বা আমিরাতে হামলা হওয়া ছিল ‘অপ্রত্যাশিত’, যা গোয়েন্দাদের দীর্ঘদিনের মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রশাসনের ভেতরেই অসন্তোষ ও পদত্যাগ
ট্রাম্পের এই একগুঁয়েমির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পদত্যাগ শুরু করেছেন। ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে মনোনীত জো কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই মুহূর্তে ইরান কোনো হুমকি ছিল না।” এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, ইরানের এই আঞ্চলিক পাল্টা আঘাত মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না।
ব্যর্থতার দায় কার?
বিশ্লেষণী পত্রিকা 'দ্য আটলান্টিক' ও 'পলিটিকো'র মতে, মার্কিন গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবার তথ্য সরবরাহে সফল হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ‘অন্তর্দৃষ্টি’ বা জেদ সব হিসেব পাল্টে দিয়েছে। সেনেটর জন ওসফ ও অ্যাঙ্গাস কিং গোয়েন্দা প্রধানদের জিজ্ঞাসাবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, গোয়েন্দাদের কাজ হলো তথ্য দেওয়া, কিন্তু প্রেসিডেন্ট যখন তা বিকৃত করেন, তখন সেই ব্যর্থতার দায়ভার একান্তই তার। ট্রাম্পের এই যুদ্ধ কেবল ইরানকে অস্থিতিশীল করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন সামরিক মর্যাদাকে এক অনিশ্চিত চোরাবালির দিকে নিয়ে গেছে।

Comments
Post a Comment