![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প |
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্টের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইরানের দীর্ঘদিনের সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছিল। সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমরা বিক্ষোভকারীদের জন্য অনেক অস্ত্র পাঠিয়েছি। আমরা কুর্দিদেরও অস্ত্র দিয়েছি, যা তারা নিজেদের কাছে রেখেছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছে এবং তেহরানের সঙ্গে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের শপিং এলাকায় অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই দেশজুড়ে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সোটোর তথ্যমতে, জানুয়ারির শুরুর দিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমনে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। বিক্ষোভ দমনের পর বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং আরও অনেকে কারান্তরীণ রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভকে ‘ইরানকে স্বাধীন করার’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে আসছিলেন। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারির সামরিক হামলাকেও তিনি এই বিক্ষোভ এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেন।
তবে ট্রাম্পের এই অস্ত্র সরবরাহের দাবি নিয়ে খোদ ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। কুর্দি জাতীয়তাবাদী দল (কেডিপিআই) এবং কমালা পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ধরনের অস্ত্র সহায়তা পায়নি। বিশ্লেষক নীল কুইলিয়াম মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য প্রায়শই পরিবর্তনশীল হওয়ায় এর সত্যতা যাচাই করা কঠিন। তবে এ ধরনের বক্তব্য ইরানি বিরোধীদের আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিভ্রান্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মৃত্যুর আগে ১৭ জানুয়ারি এক ভাষণে বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে তিনি এই সহিংসতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গোষ্ঠীকে দায়ী করে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, নিহত ৫ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন এবং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুর্দিস্তান অঞ্চল। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের ৩৮তম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ২৬ হাজার মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনাকে নতুন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Comments
Post a Comment