সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হা.মলা: বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৬, ২০২৬


 

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বিশেষ করে তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি গ্যাস স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​তেহরানের ৯ নম্বর জেলার মেয়রের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্যাস স্টেশনে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই এলাকার গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদও এই হামলার কবলে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হামলার ঘটনা ঘটছে।

​আক্রমণের বিস্তৃতি কেবল তেহরানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বোরোজের্দ শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে এক ঝাঁক যুদ্ধবিমান অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে দেখা গেছে। এছাড়া শিরাজ এবং কওম শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কওম প্রদেশের উপ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিচালক জানিয়েছেন, শহরের একটি আবাসিক এলাকা হামলার শিকার হয়েছে। তিনি সাধারণ নাগরিকদের উদ্ধারকাজ ব্যাহত না করতে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

​এই সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, তার দেওয়া শর্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না করলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্প তার পোস্টে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যদিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান আলোচনার টেবিলে আছে, তবে তেহরান বারবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঠানো ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও ইরান ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।


Comments

Post a Comment