![]() |
| মার্কেট |
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে সোমবার দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সময় বাড়ানোর জোরালো আবেদন জানালে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সকল দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে জনস্বার্থ বিবেচনা করে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য জরুরি সেবাকে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়।
সরকারের এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সংগঠনটি দাবি করেছিল যে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ দোকান মালিক এবং আড়াই কোটির বেশি কর্মচারীর জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টা থেকে দোকান খুলে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল। ব্যবসায়ীদের এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রবিবার সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা সোমবার চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হলো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই নতুন সময়সীমা বাস্তবায়নে কাজ করবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ করার নিয়মটি কঠোরভাবে তদারকি করা হবে বলেও মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। আপাতত এই নতুন সময়সূচী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

Comments
Post a Comment