সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি খেলাধুলা বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

বিসিবির নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা ও বোর্ড বিলুপ্তি; তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠন

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৭, ২০২৬

 

তামিম ইকবাল খান

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একইসঙ্গে দেশের ক্রিকেটের অচলাবস্থা নিরসনে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং নতুন অ্যাডহক কমিটির তালিকা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ।

​জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিসিবির গত নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গঠনতান্ত্রিক বিধিবিধান যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় তা আইনগতভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান বোর্ড ভেঙে দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। ক্রীড়া পরিষদ মনে করছে, এই পদক্ষেপের ফলে বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

​নতুন গঠিত ১১ সদস্যের এই অ্যাডহক কমিটিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, ক্রীড়া সংগঠক এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। তার নেতৃত্বে কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম এবং সাবেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও আতহার আলী খান।

​কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহীম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ফাহিম সিনহা। এই কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিসিবির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করবে।

​আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ থাকলেও, ক্রীড়া পরিষদ তাদের চিঠিতে আইনি অসংগতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো তুলে ধরেছে। তারা আইসিসিকে আশ্বস্ত করেছে যে, এই পদক্ষেপটি মূলত আইনি জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদে বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্যই নেওয়া হয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

​অ্যাডহক কমিটির মূল চ্যালেঞ্জ হবে থমকে থাকা ঘরোয়া লিগগুলো পুনরায় চালু করা এবং জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচি ও চুক্তির বিষয়গুলো সমন্বয় করা। নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল শিগগিরই বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাঠের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আসার ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। তবে আইসিসি এই কমিটিকে বৈধতা দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথচলা।


Comments

Post a Comment