সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল খাদেমি নিহত

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৬, ২০২৬

 

আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়েদ মাজিদ খাদেমি

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়েদ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে ‘আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুদের’ চালানো এক হামলায় তিনি প্রাণ হারান বলে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস ও তাসনিম এই তথ্য প্রচার করেছে।

​বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জেনারেল খাদেমি গত পাঁচ দশক ধরে ইসলামি বিপ্লব রক্ষা এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে একজন অবিচল ও বিশ্বস্ত সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে তার অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। তবে এই হামলাটি ইরানের অভ্যন্তরে নাকি অন্য কোথাও সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আইআরজিসি।

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, জেনারেল খাদেমি সেই অভিযানের সর্বশেষ উচ্চপদস্থ শিকার। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিনা উসকানিতে আগ্রাসনে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির একাধিক শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। নিহতদের তালিকায় আরও রয়েছেন আলি লারিজানি, আলি শামখানি, মোহাম্মদ পাকপৌর এবং আজিজ নাসিরজাদেহের মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তারা।

​হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক হাজার বেসামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

​এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েল অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চল এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিরাজমান এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জেনারেল খাদেমির মৃত্যু ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর ওই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Comments

Post a Comment