![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প |
ইরান থেকে একজন মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধারের ঘটনাকে ‘ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে তার ব্যবহৃত ধর্মীয় ভাষা এবং তেহরানের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় আঙ্গিক
গত রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই উদ্ধার অভিযানকে খ্রিষ্টীয় পবিত্র দিন ইস্টারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সুর মিলিয়ে অভিযানটিকে ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদপুষ্ট’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পদক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত দেখাতে ধর্মকে ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাম্প বিশ্বাস ও রাজনৈতিক নীতির সীমারেখা অস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বিতর্কিত বার্তা ও 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর' উক্তি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি তেহরানকে ‘পাগল কুলাঙ্গার’ এবং ‘নরকে বসবাস করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন। তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে তার বার্তার শেষ অংশ নিয়ে, যেখানে তিনি এই উগ্র বার্তার শেষে ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’ (All praise be to Allah) বাক্যটি ব্যবহার করেছেন।
প্রশাসন ও মিত্রদের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের সুর মিলিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ইস্টারের তাৎপর্য ও ঈশ্বরের মহিমার কথা উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূপাতিত এ-১৫ই বিমানের উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য রেডিওতে এই ধর্মীয় শব্দগুলো উচ্চারণ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রচারণায় ব্যবহার করছে।
তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা
ট্রাম্পের এমন আচরণের বিপরীতে খোদ রিপাবলিকান শিবিরেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাবেক প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধের অবমাননার অভিযোগ তুলে বলেন, যিশুর শিক্ষায় শত্রুর প্রতিও ভালোবাসা ও ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ানো নয়।
অন্যদিকে, আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স কাউন্সিল (CAIR) ট্রাম্পের ভাষার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সামরিক হুমকির সঙ্গে ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’ উক্তিটি ব্যবহার করা কেবল ইসলামকে ব্যঙ্গ করাই নয়, বরং এটি মুসলিম বিশ্বাসের প্রতি চরম অবজ্ঞা। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির সঙ্গে ধর্মীয় ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাকে তারা ‘বেপরোয়া ও বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছে।

Comments
Post a Comment