ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়া উপকূলে এক মর্মান্তিক নৌযানডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও জাতীয়তা
ইতালির কোস্টগার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’আরিগো জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। জার্মান উদ্ধার সংস্থা 'সি ওয়াচ'-এর একটি বিমান শনিবার ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রে একটি উল্টে যাওয়া কাঠের নৌযান শনাক্ত করে। সে সময় অনেককে নৌকাটি আঁকড়ে ধরে থাকতে এবং অন্যদের পানিতে ভাসতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌযানটি লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌযানটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে এটি মাঝসমুদ্রে ডুবে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি
উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিখোঁজ হওয়া বাকি যাত্রীদের সন্ধানে বর্তমানে বিশাল এলাকাজুড়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভূমধ্যসাগরের এই মধ্যাঞ্চলীয় রুটটি অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পথ হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরেই এই পথে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন, যা এই রুটের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এলো।

Comments
Post a Comment