![]() |
| জাতীয় সংসদ |
সংসদীয় প্রক্রিয়া ও বিল পাস
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের আগে কোনো দফাওয়ারী সংশোধনী না থাকায় এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ ছিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং গণহত্যাকারী সংগঠনের বিচার নিশ্চিত করতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতার আপত্তি
বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপনের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে সময়ের আবেদন করেন। তিনি বলেন, "তুলনামূলক শিটটি মাত্র কয়েক মিনিট আগে আমাদের হাতে এসেছে, যা পুরোপুরি পড়ার সুযোগ হয়নি। স্পর্শকাতর এই আইনটি পর্যালোচনার জন্য আমরা কি কিছুটা সময় পেতে পারি?"
জবাবে স্পিকার জানান, বিলের এই পর্যায়ে এসে আপত্তির সুযোগ নেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপত্তি না আসায় বিলটি পাসের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "এই বিলটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এই আইনের অধীনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত রেখেছে। পরবর্তীতে আইসিটি অ্যাক্টেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করা হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিলটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশেরই ধারাবাহিকতা।
প্রেক্ষাপট ও ফলাফল
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের যেকোনো কার্যক্রম কেবল নিষিদ্ধই থাকবে না, বরং এর আওতায় দলটির নেতা-কর্মীদের আইনি বিচারের মুখোমুখি করার পথ আরও সুগম হলো।

Comments
Post a Comment