![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প |
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে। তবে এখন যেহেতু আমাদের হাতে সম্পূর্ণ এবং পূর্ণাঙ্গ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, যেখানে ভিন্ন, আরও স্মার্ট এবং কম উগ্রবাদী চিন্তার মানুষের প্রাধান্য থাকবে, তাই হয়তো বৈপ্লবিক ও চমৎকার কিছু একটা ঘটতে পারে।” তার এই বক্তব্যে সরাসরি ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাত বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, “কে জানে কী হবে? আমরা আজ রাতেই তা জানতে পারব, যা বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবশেষে অবসান ঘটবে।” পোস্টের শেষে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে লিখেছেন, “ইরানের মহান জনগণের ওপর সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ বর্ষিত হোক!”
বিদ্যমান পরিস্থিতির মূল বিষয়গুলো:
- সময়সীমা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া আল্টিমেটাম আজ মঙ্গলবার রাতেই শেষ হচ্ছে।
- টার্গেট: দাবি মানা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং প্রধান অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
- মানবিক চিত্র: আল জাজিরার তথ্যমতে, গত ৩৮ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে ইরানে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৭৬ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬ হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
- বিশ্ব অর্থনীতি: হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশ্বের নজর এখন আজ রাতের ওপর। ট্রাম্পের এই ‘সভ্যতা শেষ’ করে দেওয়ার হুমকি কেবল বাগাড়ম্বর নাকি এক ভয়াবহ পারমাণবিক বা সর্বাত্মক যুদ্ধের পূর্বাভাস, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তেহরান অবশ্য এখন পর্যন্ত নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখায়নি, বরং যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য তথা পুরো বিশ্ব।

Comments
Post a Comment