সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি ঋণখেলাপী বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ: খেলাপি ঋণ ৫.৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৬, ২০২৬

 

এস আলম গ্রুপ
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

​ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ধরে বিশাল অংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

​প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তালিকার শীর্ষে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো), বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

​অর্থমন্ত্রী আরও জানান, শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকায় সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড এবং ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামও রয়েছে। জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ ও জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড এবং সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের দায়ে অভিযুক্ত। এছাড়া দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, কর্ণফুলী ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ এবং রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

​সংসদে উত্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আইনি জটিলতার কারণে এই বিপুল অংকের ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপি হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়নি। অর্থমন্ত্রী জানান, আদালতের নির্দেশনার কারণে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

​অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের এই বিশাল অংক ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। সংসদে এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে খেলাপিদের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


Comments

Post a Comment