![]() |
| ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর, প্রথম গোলদাতা লুইস দিয়াসের সঙ্গে হ্যারি কেইনের (বাঁয়ে) উদযাপন। |
এক যুগের জয়খরা কাটিয়ে রেয়াল মাদ্রিদকে তাদেরই মাটিতে স্তব্ধ করে দিল বায়ার্ন মিউনিখ। আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল খেলে সেমি-ফাইনালের দৌড়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল জার্মান জায়ান্টরা।
চল্লিশ বছর বয়সেও নিজের ক্ষিপ্রতা আর অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিলেন মানুয়েল নয়ার। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে রেয়াল মাদ্রিদকে হতাশায় ডুবিয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে জয়ের পথে আগলে রাখলেন এই কিংবদন্তি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই গোল করে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে তুলে নেয় বায়ার্ন। শেষ দিকে রেয়াল এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরাই।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। লুইস দিয়াস ও হ্যারি কেইনের গোলে জয় নিশ্চিত হয় বায়ার্নের, যেখানে রেয়ালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপে।
মঙ্গলবার রাতের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সমানে সমান পাল্লা দিয়েছে দুই দল। গোলের অসংখ্য সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে বায়ার্ন যেমন ব্যবধান বাড়াতে পারেনি, তেমনি রেয়ালও পারেনি হার এড়াতে।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল স্বাগতিক রেয়াল মাদ্রিদ। তবে গোলমুখে আক্রমণের ধার ছিল দুই দলেরই সমান। ২০টি করে শট নিয়েছে উভয় দল, যার মধ্যে রেয়ালের ৯টি এবং বায়ার্নের ৮টি শট ছিল গোলমুখে।
দীর্ঘ ১২ বছর পর রেয়ালের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল বায়ার্ন। সবশেষ ২০১১-১২ মৌসুমে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে এই একই ব্যবধানে জিতেছিল তারা। এরপর দীর্ঘ সময় নকআউট পর্বে মাদ্রিদের ক্লাবটির বাধা পেরোতে পারেনি বায়ার্ন। দীর্ঘ আট ম্যাচের জয়হীন যাত্রার অবসান ঘটল এই জয়ের মধ্য দিয়ে।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বায়ার্নের পেনাল্টির জোরাল দাবি নাকচ করে দেন রেফারি। ভালভের্দের হাতে বল লাগলেও তা অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে গণ্য হয়। এর পরের মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন বায়ার্নের উপামেকানো। গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বল ক্লিয়ার করেন আলভারো কাররেয়াস।
পাল্টা আক্রমণে রেয়ালও ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ষোড়শ মিনিটে এমবাপে এবং ১৮তম মিনিটে ভিনিসিউসের জোরাল শট রুখে দিয়ে বায়ার্নের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকেন নয়ার। রক্ষণের দুর্বলতা আর ভুল পাসের খেসারত দিতে গিয়ে ২৮ মিনিটে প্রায় গোল খেয়ে বসেছিল রেয়াল, তবে লুনিনের দক্ষতায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় তারা।
খেলার ৪১তম মিনিটে ভাঙে দীর্ঘ প্রতীক্ষার ডেডলক। জিনাব্রির পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বায়ার্নকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াস। বিরতির ঠিক পরেই বায়ার্নের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেইন। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে কেইনের করা লক্ষ্যভেদী শটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। এই মৌসুমে এটি কেইনের ৪৯তম গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রেয়াল মরিয়া হয়ে আক্রমণ করতে থাকে। ভিনিসিউস ও এমবাপে একের পর এক সুযোগ পেলেও নয়ারের দেয়াল ভাঙতে পারছিলেন না। অবশেষে ৭৪তম মিনিটে আর্নল্ডের ক্রসে পা ছুঁইয়ে জালে বল পাঠান এমবাপে। এতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে রেয়াল শিবিরে।
শেষ দিকে মুসিয়ালা সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে এমবাপের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হারের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়ে রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা। আগামী বুধবার ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লেগে রেয়ালকে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন মিউনিখ।

Comments
Post a Comment