মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বর আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া দুজন স্থানীয়র নাম রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সময় ধারণকৃত ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ছুরি হাতে বাহিনী নিয়ে যাচ্ছেন। হকিস্টিক হাতে ছুটে যাচ্ছেন ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের, যিনি নিজেই ওই ভিডিও ধারণ করেছিলেন। যুবদল কর্মী সুজন পুরোনো রড মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যুবদল সদস্য রাসেল স্থানীয় যুবকদের ডেকে লাইভ করে সবাইকে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে পীরের ওপর আঘাত করতে দেখা যায় যুবদল ক্যাডার মিঠুনকে।
ভিডিওতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিকেও শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার তিন ঘণ্টা আগে ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজের ফেসবুক থেকে পোস্ট দিয়ে কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পীরের আস্তানা উচ্ছেদের আহ্বান জানান।
অথচ মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ হামলার আগেই কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান। এসব প্রমাণ যুগান্তরের হাতে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ঘটনার দিন খাজা আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, খাজা আহম্মেদ কথা দিয়েছিলেন কোনো ঝামেলা হবে না, কিন্তু এর কিছু সময় পরেই হামলা হয়।
কেন শনাক্ত হওয়া হামলাকারীরা মামলায় আসামি হলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী ফজলুর রহমান বলেন, এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না, আমাকে মাফ করবেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ঘটনাস্থলে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের নেতাদের জড়ানোর চেষ্টা চলছে। মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো আসামি জড়িত না থাকলে তদন্তে তার নাম বাদ যাবে। আবার কেউ জড়িত থাকলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।
সূত্র- যুগান্তর

Comments
Post a Comment