দেশের এভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সোমবার সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদলের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বোয়িংয়ের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বোয়িং ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনা চলাকালে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারের প্রসারে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বিশেষ করে বি৭৩৭ (B737) সিরিজের ন্যারোবডি উড়োজাহাজগুলো লিজ দেওয়ার বিষয়ে বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। রিগি জানান, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সিরিজের উড়োজাহাজগুলো অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বৈঠকে জানান, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান বহরে দ্রুত নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি কোনো প্রকার বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বোয়িংয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় উভয় পক্ষ আরও কয়েক দফা কারিগরি বৈঠকে বসবে। বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত শর্তাবলী পর্যালোচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন করে ন্যারোবডি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি দেশের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Comments
Post a Comment