সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

টেকনাফের পাহাড়ে রক্তাক্ত ৩ মরদেহ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬

 

লাশ উদ্ধার করছে 
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

ঘটনার বিবরণ ও নিহতের পরিচয়

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারাও মারা যান। নিহতরা হলেন:

  • মুজিবুর রহমান
  • নুর বশর
  • রবিউল আউয়াল (নিহত তিন জনই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।)

তদন্ত ও পুলিশের বক্তব্য

​টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:

  • চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধ: নিহতদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জিম্মিদের ভাগাভাগি বা পাচার সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
  • পূর্ব শত্রুতা: নিহত রবিউলের বাবার দাবি অনুযায়ী, রাতে মুজিব নামের এক ব্যক্তি রবিউলকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।

জনমনে আতঙ্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি

​বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, টেকনাফের এই পাহাড়ি এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচারকারী চক্রের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

  • জিম্মি দশা: স্থানীয় কাঠুরিয়াদের ভাষ্যমতে, প্রায়ই পাহাড় থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়, যা জিম্মিদের ওপর নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়।
  • গণ-আতঙ্ক: এই সশস্ত্র চক্রগুলোর সক্রিয় অবস্থানের কারণে এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

​পুলিশ বর্তমানে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং পাহাড়ের গহীন অঞ্চলে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


Comments

Post a Comment