সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা: শর্ত নিয়ে দুই মেরুতে পক্ষগুলো

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৮, ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—তিন পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও এর শর্তাবলী এবং স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার কথা থাকলেও প্রতিটি শর্ত নিয়ে পক্ষগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই প্রক্রিয়াকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি: খুলে দেওয়া নাকি নিয়ন্ত্রণ?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। তবে ইরান জানিয়েছে, জলপথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়, বরং তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই জাহাজ চলাচল করতে হবে এবং জাহাজের সংখ্যায় সীমাবদ্ধতা থাকবে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জাহাজ চলাচলে ‘মাশুল’ বা টোলের দাবি তুললেও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, তারা কেবল প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন, অন্য কিছুতে নয়।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা

চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান একে ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার প্রতিশোধ বললেও, পেন্টাগন দাবি করেছে ইরানের অভ্যন্তরীণ কমান্ড ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার কারণে এই হামলা হতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই হামলাগুলোকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পারমাণবিক ইস্যু ও ১০ দফা প্রস্তাব

শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি মানলেও বুধবার অবস্থান বদলে তার নিজস্ব ১৫ দফা পরিকল্পনার কথা জানান। ট্রাম্প কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে দেওয়া হবে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “কোনো সমৃদ্ধকরণ হবে না; যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মিলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সব পারমাণবিক কণা খুঁড়ে বের করে আনবে।”

লেবানন ইস্যু ও নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান

পাকিস্তান ও ইরান দাবি করছে যে, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে লেবাননে হামলা আরও জোরদার করেছেন। নতুন করে এই হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরান একে চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে।

‘ট্রিগারে হাত রেখেই’ আলোচনার অপেক্ষা

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মুহূর্তের নোটিশে তারা পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত। পাল্টা বার্তায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের হাতও ট্রিগারেই আছে।

​সব চোখ এখন শুক্রবারের ইসলামাবাদ বৈঠকের দিকে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে এই আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মনে গভীর সংশয় রয়েছে।


Comments

Post a Comment