![]() |
| ছবি: সংগ্রহীত |
নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা লিটার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইরান যুদ্ধের পর একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠলেও এখন তা ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে বিশ্বনেতারা একজোট হতে শুরু করেছেন। ফ্রান্স এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বাড়ানোর যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। তখনও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করার মুহূর্তে দেশে দাম বাড়ানো হয়েছিল। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ শতাংশ এবং অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৫১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে সমালোচনার মুখে মাত্র ৫ টাকা করে কমানো হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতার তুলনায় অনেক কম ছিল।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজির দামও দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। পিডিবির উৎপাদন খরচ ও আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং কমিটির সুপারিশের পরই বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিম্নমুখী থাকার সময় দেশে দাম বাড়ানো জনগণের প্রতি সুবিচার হয়নি। ক্ষমতায় আসার সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পণ্যের দাম বাড়াবে না এবং ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে লুণ্ঠনমূলক বলে অভিহিত করে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, কিছুটা দাম বাড়ানো অযৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশও দাম বাড়িয়েছে এবং এতে জনগণ সংকট সম্পর্কে সচেতন হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, না হলে একশ্রেণির অসাধু চক্র এটিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেবে।
বাস ও ট্রাক ভাড়া ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। কৃষিতে সেচ ও শিল্পে কাঁচামাল পরিবহনের খরচ বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments
Post a Comment