সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে ৫৭ এনজিওর নিবন্ধন বাতিল

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬

 

ছবিঃ সংগ্রহীত
অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) গত দেড় দশকে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে মোট ৫৭টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

রেকর্ড গড়া ২০২৫ সাল

​দেশের ইতিহাসে একক বছর হিসেবে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলের ঘটনা ঘটে। ওই এক বছরেই ৪৮টি এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করে এমআরএ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৯টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল।

বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান:

  • ২০২৪ (আগস্ট-ডিসেম্বর): মানব সেবা সংস্থা, বিলহামলা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিএস), চেতনা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা (সিএমইউএস), উপমা, আদর্শ ফাউন্ডেশন, জনসেবা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (জেডিএস), হিতৈষী বাংলাদেশ প্রভৃতি।
  • ২০২৫ (জানুয়ারি-ডিসেম্বর): আলোকন, এগিয়ে চল, মালঞ্চ ফাউন্ডেশন, ঝাউদিয়া গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা, গণ উন্নয়ন একাডেমী, রূপা, গণী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নারী ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন (এনএসকেএফ), ভালুকা ফাউন্ডেশন, জয়বাংলা নারী উন্নয়ন সংস্থা, ইকো সোসাইটি, পদ্মা-গড়াই মানবিক উন্নয়ন সংস্থা প্রমুখ।
  • ২০২৬ (ফেব্রুয়ারি): ১ মাসেই ৭টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে— ফরিদপুরের ‘আর্থ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা’, ধামরাইয়ের ‘প্রগতি কেন্দ্র’, চুয়াডাঙ্গার ‘ঊষা বাংলাদেশ’ এবং রাজশাহীর ‘সীড প্রোগ্রাম অব গ্রামীণ সোসাইটি’।

গ্রামীণ ব্যাংকের ৫ বছরের কর অব্যাহতি

​ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সব ধরণের আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সুবিধা প্রদান করে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটির কাছে ৬০০ কোটি টাকার বেশি কর দাবি ছিল।

দেড় দশকের পরিসংখ্যান (২০১১-২০২৬)

​এমআরএ-এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশে মোট ২৩৫টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

  • শুরুর দিকে: ২০১১ সালে ৩টি এবং ২০১২ সালে ১৭টি।
  • মাঝারি পর্যায়ে: ২০১৮ সালে ২১টি এবং ২০২৪ সালে ২৫টি।
  • সর্বোচ্চ: ২০২৫ সালে ৪৮টি।

কেন বাতিল হয় লাইসেন্স?

​এমআরএ-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, মূলত গ্রাহক ও আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লাইসেন্স বাতিলের প্রধান কারণগুলো হলো:

১. আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন: নির্ধারিত সুদের হারের চেয়ে বেশি আদায় বা সঞ্চয় সংগ্রহে অনিয়ম।

২. আর্থিক অব্যবস্থাপনা: আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া।

৩. তদন্তে অসহযোগিতা: বারংবার সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির উন্নয়ন না ঘটানো।

পলাতক মালিক ও আইনি সংকট

​এমআরএ-এর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে মালিক পালিয়ে গেলে ঋণগ্রহীতারা আর টাকা ফেরত দিতে চান না, ফলে সাধারণ আমানতকারীরা পথে বসেন। এই আইনি জটিলতা কাটাতে এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতকে আরও জনবান্ধব করতে এমআরএ বর্তমানে বিধিমালা সংস্কারের কাজ করছে।


Comments

Post a Comment