সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি ইসলাম বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

মসজিদুল আকসার গুরুত্ব কী? — ইতিহাস, কুরআন-হাদিস ও মুসলমানের দায়িত্ব একসাথে

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬

আল আকসা মসজিদ
পৃথিবীর বুকে এমন কিছু স্থান আছে যেগুলোর নাম কানে আসলে হৃদয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি জেগে ওঠে। চোখ ভিজে যায়, বুকটা ভারী হয়ে পড়ে। মসজিদুল আকসা — বায়তুল মুকাদ্দাস — তেমনই এক নাম। শুধু একটি মসজিদ নয়, এটি কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ইতিহাস আর ভালোবাসার প্রতীক।

ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুজালেমে অবস্থিত এই মসজিদ নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে — কেন এই মসজিদ এত গুরুত্বপূর্ণ? কুরআন-হাদিসে এর কথা কীভাবে এসেছে? কারা এটি তৈরি করেছিলেন? আজকের এই আর্টিকেলে সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

মসজিদুল আকসা কোথায় এবং এর নামের অর্থ কী?

'আকসা' আরবি শব্দ, অর্থ 'দূরবর্তী'। মক্কা থেকে দূরে হওয়ার কারণে এই নামটি দেওয়া হয়েছে। মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস হলো জেরুসালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ।  (Wikipedia)

এর সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস-সাখরা, কুব্বাত আস-সিলসিলা ও কুব্বাত আন-নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলোসহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল-শরিফ বলা হয়।  (Wikipedia) অনেকে সোনালি গম্বুজওয়ালা কুব্বাত আস-সাখরাকেই আল-আকসা মনে করেন, এটি একটি ভুল ধারণা। কুব্বাত আস-সাখরা মূলত একটি পৃথক স্থাপনা।

পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম মসজিদ

মসজিদে আকসার একটি বড় পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য হল, এটি পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ। মসজিদে হারামের পরেই এই মসজিদের বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে।  (Alkawsar)

আরো পড়ুন-তাওয়াক্কুল: আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে যে অলৌকিক পরিবর্তন আসে — কুরআন ও হাদিসের আলোয়

আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে এসেছে — তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ নির্মিত হয়েছে? রাসূল (সা.) বললেন: মসজিদুল হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: মসজিদুল আকসা। আমি বললাম, এই দুটির মাঝে কত সময়ের ব্যবধান? তিনি বললেন: চল্লিশ বছর। (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, আল আকসা পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। মক্কায় মসজিদুল হারাম নির্মাণের ৪০ বছর পরে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়।  (Dhakapost)

কে প্রথম এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন?

এই বিষয়ে আলেমদের কয়েকটি মত রয়েছে। একদল ইতিহাসবিদ মনে করেন, আল আকসা মসজিদ মূলত হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমেই তৈরি হয়, যা পরবর্তী নবীরা পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করেন।  (Bangla News 24)

বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতিষ্ঠা হয় মুসলিম জাতির বাবা হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক পবিত্র কাবা নির্মাণের ৪০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। তার নাতি বনি ইসরায়েলের প্রথম নবী হজরত ইয়াকুব (আ.) ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ শহর জেরুজালেমে মসজিদ আল-আকসা নির্মাণ করেন। অতঃপর হজরত সুলায়মান (আ.) এ পবিত্র মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন।  (Protidiner Sangbad)

অর্থাৎ এই পবিত্র ভূমির সাথে জড়িয়ে আছে হজরত আদম (আ.), ইবরাহিম (আ.), ইয়াকুব (আ.) এবং সুলায়মান (আ.)-এর মতো মহান নবীদের নাম — যারা সবাই মুসলিম উম্মাহর আদর্শ পূর্বপুরুষ।

কুরআনে মসজিদুল আকসার উল্লেখ — ইসরা ও মিরাজের ঘটনা

মসজিদুল আকসার মর্যাদার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো — আল্লাহ তা'আলা নিজে পবিত্র কুরআনে এই মসজিদের নাম উল্লেখ করেছেন। সূরা বনী-ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেন:

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ

"পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চতুর্পার্শ্বকে আমি বরকতময় করেছি।" — (সূরা বনী-ইসরাঈল: ১)

এই একটি আয়াতেই তিনটি বিশাল সত্য প্রকাশ পাচ্ছে। প্রথমত, আল্লাহ নিজে মসজিদুল আকসাকে 'বারাকাতময়' বলে ঘোষণা করেছেন। দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মিরাজের সফরের সূচনাবিন্দু ছিল এই মসজিদ। তৃতীয়ত, এই মসজিদ শুধু একটি ইমারত নয়, এটি আল্লাহর বিশেষ নিদর্শনের অংশ।

ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত সফরকে 'ইসরা' এবং মসজিদুল আকসা থেকে আরশে আজিমে সফরকে মিরাজ বলা হয়।  (Wikipedia)

মিরাজের রাতে যা ঘটেছিল আল-আকসায়

মিরাজের রাতের ঘটনা প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গেঁথে আছে। মসজিদে আকসার গুরুত্ব বোঝার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, মেরাজ রজনীতে আমাদের নবীজী ঊর্ধ্বজগতের সফর শুরু করার পূর্বে জিবরীল আমীনের সাথে প্রথমে এই মসজিদে এসেছেন এবং নামাজ আদায় করেছেন। তিনি ইমামতি করেছেন আর সমস্ত নবীগণ তাঁর ইকতিদা করেছেন।  (Alkawsar)

ভাবুন একবার — পৃথিবীর সমস্ত নবী-রাসূল সেই রাতে একত্রিত হয়েছিলেন আল-আকসায়। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁদের ইমামতি করেছিলেন। এর চেয়ে বড় সম্মান এই মসজিদের জন্য আর কী হতে পারে?

এই মিরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়।  (Wikipedia) অতএব প্রতিদিন যখন আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, প্রতিবারই আমরা এই মহান মসজিদের সাথে এক অদৃশ্য সুতায় যুক্ত হয়ে পড়ি।

মুসলমানদের প্রথম কিবলা

আল আকসা মসজিদের গুরুত্বের আরও একটি বড় কারণ হলো প্রথম থেকে হিজরত পরবর্তী ১৭ মাস পর্যন্ত মুসলমানরা আল আকসা মসজিদের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানদের কেবলা মক্কার দিকে পরিবর্তিত হয়।  (Bangla News 24)

নবী কারীম (সা.) যখন প্রথম মদীনায় এলেন, তাঁর মামাদের বাড়িতে মেহমান হলেন। আর তিনি বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে ১৬ থেকে ১৭ মাস পর্যন্ত নামাজ আদায় করেছেন।  (Alkawsar) ইসলামের সেই প্রথম দিনগুলোতে প্রতিটি নামাজে মুসলমানরা যে দিকে মুখ করতেন — সেই পবিত্র দিকটি ছিল আল-আকসার দিক। এই ইতিহাস আল-আকসাকে মুসলিম হৃদয়ে এক অনন্য স্থান দিয়েছে।

হাদিসে বিশেষ সফরের মর্যাদা

রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন:

"তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (ইবাদতের নিয়তে) সফর করা যাবে না — মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববি) এবং মসজিদুল আকসা।" — (সহীহ বুখারি: ১১৮৯, সহীহ মুসলিম: ১৩৯৭)

নবী করিম (সা.) তিনটি মসজিদের কথা বলেছেন, যথা মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষ পুণ্যময় কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি।  (Deshrupantor)

পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মসজিদ আছে। কিন্তু এই তিনটি মসজিদকে রাসূল (সা.) আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। এটিই প্রমাণ করে মসজিদুল আকসার অতুলনীয় মর্যাদা।

নবী-রাসূলদের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ভূমি

বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীর স্মৃতিবিজড়িত।  (Bangla News 24) ফিলিস্তিনের এই ভূখণ্ডে বহু নবী-রাসূল বাস করেছেন, দাওয়াতের কাজ করেছেন এবং আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

মসজিদে আকসা নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত আদম (আ.), হজরত ইয়াকুব (আ.), হজরত সুলায়মান (আ.)-এর নাম। জড়িয়ে আছে প্রায় অর্ধ জাহানের মুসলিম শাসক হজরত ওমর (রা.) এবং এরপর সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবীসহ অসংখ্য বীরের নাম।  (Dhaka Mail)

এই ভূমি যেন ইসলামের ইতিহাসের এক জীবন্ত পাঠ্যপুস্তক। প্রতিটি পাথরে, প্রতিটি দেয়ালে লেখা আছে হাজার বছরের বিশ্বাস আর ত্যাগের গল্প।

উমর (রা.)-এর জেরুজালেম বিজয় এবং মসজিদ নির্মাণ

৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) জেরুজালেম জয় করেন। মেরাজের রাতে রাসূল (সা.)-এর আল আকসায় আগমনের মধ্য দিয়ে ইসলামি যুগের সূচনা হয়। হিজরী ১৪ সালে খলীফা উমর (রা.) ফিলিস্তিন বিজয়ের পরে প্রথমে এখানে মসজিদে উমর নির্মাণ করেন।  (Dhakapost)

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো — উমর (রা.) জেরুজালেম বিজয়ের পরে কোনো রক্তপাত ঘটাননি, কোনো গির্জা ভাঙেননি, কোনো ইহুদিকে তাড়িয়ে দেননি। বরং তিনি সকল ধর্মের মানুষের জন্য উপাসনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। এটিই ইসলামের উদারতার সত্যিকারের পরিচয়।

ক্রুসেডারদের দখল ও সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর মুক্তি

১৫ জুলাই ১০৯৯ সাল — ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এক বেদনাদায়ক দিন। সেদিন ক্রুসেডার বাহিনী সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে।  (Protidiner Sangbad) ক্রুসেডাররা জেরুসালেম দখল করার পর তারা মসজিদটিকে একটি প্রাসাদ এবং একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত কুব্বাত আস-সাখরাকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করত।  (Wikipedia)

প্রায় এক শতাব্দী ধরে মুসলমানরা তাদের প্রিয় মসজিদ থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা সেই অন্ধকার যুগে একজন বীরের জন্ম দিয়েছিলেন — সালাহউদ্দিন আইয়ুবী।

২ অক্টোবর ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি ও গভর্নর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীবেশে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন।  (Protidiner Sangbad) বিজয়ের পরে তিনি প্রতিশোধ নেননি, হত্যাযজ্ঞ চালাননি — বরং মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

আধুনিক যুগে আল-আকসার পরিস্থিতি

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আল আকসার নিয়ন্ত্রণ হারায় মুসলমানরা।  (Dhakapost) বর্তমানে পুরনো শহর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে মসজিদটি জর্ডানি/ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াকফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  (Wikipedia)

বর্তমানে আকসা কমপ্লেক্স ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মসজিদ পরিচালিত হয় জর্ডান-ফিলিস্তিনের একটি ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে। যদিও এর প্রবেশপথগুলোতে মোতায়েন করা থাকে দখলদার সেনারা।  (Dhaka Mail) ১৯৬৯ সালে মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল — যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে শোকে মুষড়ে দিয়েছিল।

মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব কী?

উপরের আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল, আল-আকসা বা বাইতুল মাকদিস ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ আর মুসলিম উম্মাহর জন্য কতই না গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গোটা মুসলিম উম্মাহ আল-আকসার বিষয়ে দায়িত্বহীনতার শিকার হয়ে পড়েছে।  (Alkawsar)

আমাদের দায়িত্ব বহুমাত্রিক। প্রথমত, আল-আকসার সঠিক ইতিহাস ও গুরুত্ব জানা এবং পরিবার-সন্তানদের জানানো। কারণ যে জাতি তার ঐতিহ্য ভুলে যায়, সে জাতি পথ হারায়। দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন দোয়া করা। দোয়া একজন মুসলমানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। তৃতীয়ত, সামর্থ্য অনুযায়ী ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়ানো — মানবিক সাহায্যের মাধ্যমে হোক বা সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে হোক। আল-আকসার তাৎপর্য ভৌগোলিক, ধর্মীয় এবং ভাষাগত সীমানা অতিক্রম করে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করার কারণ হিসেবে কাজ করে।  (RisingBD)

উপসংহার

মসজিদুল আকসা শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়। এটি হাজার বছরের নবুয়্যতের ইতিহাস, লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্ত, কোটি কোটি মুসলমানের আবেগ আর আল্লাহর বিশেষ বরকতের প্রতীক। কুরআন যে মসজিদকে 'বারাকাতময়' বলেছে, যে মসজিদে আমাদের নবী (সা.) সকল নবীদের ইমামতি করেছেন, যে মসজিদের দিকে মুখ করে মুসলমানরা ১৭ মাস নামাজ আদায় করেছেন — সেই মসজিদকে আমরা কখনো ভুলতে পারি না, ভুলব না।

আল্লাহ তা'আলা মসজিদুল আকসাকে হেফাজত করুন, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের সাহায্য করুন এবং এই উম্মাহকে তার দায়িত্ব পালনের তাওফিক দিন।

আমিন।


Comments

Post a Comment