সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি স্বাস্থ‍্য বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

গরমে কী করবেন, কী করবেন না — ডাক্তারের পরামর্শসহ জানুন

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬

প্রতীকী ছবি 
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন শরীরকে সুস্থ রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, ত্বকের সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। সঠিক সচেতনতা এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে গরমের মৌসুমেও সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব — গরমে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে।

গরমে যা অবশ্যই করবেন

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

গরমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণ না হলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।

ডাক্তারের পরামর্শ: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস বা ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করতে হবে। যারা বাইরে কাজ করেন বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের আরও বেশি পানি পান করা উচিত। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ওরাল স্যালাইন পান করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।

২. হালকা ও সুতির পোশাক পরুন

গরমে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। সুতির কাপড় শরীরের তাপ শুষে নেয় এবং ঘাম শুকাতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙের পোশাক বেশি তাপ শোষণ করে, তাই গরমে সাদা বা হালকা রঙের পোশাক বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আরো পড়ুন- দাঁত ব্রাশ: খাওয়ার আগে নাকি পরে? বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতামত

৩. রোদে বের হলে সুরক্ষা নিন

বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। মাথায় টুপি বা ক্যাপ পরলে সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ডাক্তারের পরামর্শ: ত্বক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে মেখে নেওয়া উচিত। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে যতটা সম্ভব রোদে না থাকাই ভালো।

৪. মৌসুমি ফল ও সবজি খান

গরমে তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, আম, লিচু ও পেঁপের মতো মৌসুমি ফল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। এগুলোতে প্রচুর পানি, ভিটামিন ও খনিজ থাকে যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৫. নিয়মিত গোসল করুন

গরমে দিনে একাধিকবার গোসল করা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ত্বকের ঘামজনিত সংক্রমণ রোধ করে। ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করুন।

৬. ঘরে ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখুন

ঘরের জানালায় পর্দা টেনে রাখুন যাতে সরাসরি রোদ না আসে। সন্ধ্যার পর জানালা খুলে দিন যাতে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করতে পারে। সম্ভব হলে ফ্যান বা এয়ার কুলার ব্যবহার করুন।

গরমে যা অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন

১. দুপুরের প্রখর রোদে বাইরে যাবেন না

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে বাইরে থাকলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি। একান্ত প্রয়োজন না হলে এই সময়ে বাইরে না যাওয়াই উত্তম।

ডাক্তারের পরামর্শ: মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, হিটস্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে যায়, মাথা ঘোরানো ও বমিভাব হয় এবং অজ্ঞান পর্যন্ত হতে পারে। কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত ছায়ায় নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিন।

২. অতিরিক্ত চা, কফি ও কোলা পান করবেন না

চা, কফি ও কোলাজাতীয় পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে যা শরীর থেকে পানি বের করে দেয় এবং ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। গরমে এই পানীয়গুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন বা পরিমিত পান করুন।

৩. রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন

গরমে রাস্তার পাশের খোলা খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এই খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ডাক্তারের পরামর্শ: গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা বলেন, গরমে ডায়রিয়া হলে দ্রুত শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে, বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক। তাই ঘরে তৈরি তাজা ও পরিষ্কার খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৪. অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করবেন না

গরমে অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। ব্যায়াম করতে চাইলে সকাল বা সন্ধ্যায় করুন এবং সঙ্গে পানি রাখুন।

৫. আঁটসাঁট ও সিনথেটিক পোশাক পরবেন না

সিনথেটিক বা নাইলনের পোশাক শরীরের ঘাম শোষণ করে না বরং তাপ আটকে রাখে। এতে ত্বকে ঘামাচি, ফুসকুড়ি ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

৬. একসাথে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করবেন না

গরমে বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি পান করা উচিত নয়। এতে গলায় ব্যথা ও ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে। প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন।

শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

শিশু ও বয়স্কদের শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে কম সক্ষম। তাই তাদের বেলায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

ডাক্তারের পরামর্শ: শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরমে শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ বা পানি খাওয়ান এবং রোদে বের না করাই ভালো। গর্ভবতী নারীদের গরমে হাঁটাচলা সীমিত রাখুন, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। যেকোনো অস্বস্তি বা অতিরিক্ত গরম লাগলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো হলো — তীব্র মাথাব্যথা, বমিভাব, ত্বক গরম ও শুকনো হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অচেতন হয়ে পড়া।

প্রাথমিক করণীয়: আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়ায় নিয়ে যান। গায়ের কাপড় ঢিলা করুন। মাথায় ও শরীরে ঠান্ডা পানি দিন। জ্ঞান থাকলে পানি বা স্যালাইন খাওয়ান এবং অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান।

উপসংহার

গরম মৌসুমে একটু সচেতন থাকলেই অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। গরমে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো মেনে চলুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন, সুষম খাবার খান এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন।


Comments

Post a Comment